পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) হলো নারীদের প্রজনন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এমন একটি হরমোনের কারণে হওয়া জটিল ব্যাধি। এটি প্রজনন বয়সের প্রায় ১০% নারীকে প্রভাবিত করে। একজন নারী তার সন্তানধারণ সময়কালের অর্থাৎ পিরিয়ড হওয়ার পর থেকে মেনোপোজ হওয়ার সময় পর্যন্ত, যেকোনো সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
এক্ষেত্রে প্রোজেস্টেরন নামক এক প্রকার হরমোন আক্রান্ত নারীদের দেহে উচ্চমাত্রায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ একজন নারীর দেহে এই হরমোন যেভাবে নিঃসরিত হবার কথা সেভাবে আক্রান্তকালীন সময়ে নি:সরিত হয়ে উঠেনা। এর ফলে একজন নারী তার পিরিয়ড মিস করতে পারেন অথবা পিরিয়ডকালীন সময়ে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় পড়ে যেতে পারেন৷ একইসাথে রোগীর বিকাশে এন্ড্রোজেন নামক এক প্রকার হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
লক্ষণ:
- অনিয়মিত মাসিক: মাসিক অনেক দীর্ঘ হতে পারে, কম ঘন ঘন হতে পারে, বা একেবারে নাও হতে পারে।
- হরমোনজনিত সমস্যা: আক্রান্ত নারীদের শরীরে পুরুষ হরমোন (অ্যান্ড্রোজেন) এর মাত্রা বেশি থাকে যার ফলে মুখ ও শরীরে অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধি, ব্রণ, ত্বকের তৈলাক্ততা, চুল পাতলা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
- প্রজনন সমস্যা: আক্রান্ত নারীদের গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
- ওজন বৃদ্ধি: PCOS-এ আক্রান্ত নারীদের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বেশি থাকে।
- অন্যান্য: মাথাব্যথা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, ঘুমের সমস্যা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি।
জটিলতা:
PCOS-এর কারণে সবচেয়ে বেশি যেসব জটিলতা দেখা যায় সেগুলো হলো:
- গর্ভধারণে সমস্যা
- টাইপ 2 ডায়াবেটিস
- হৃদরোগের ঝুঁকি
- জরায়ুর ক্যান্সার এর ঝুঁকি ইত্যাদি।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন:
যদি আপনার মাসিক অনিয়মিত হয় এবং মুখ ও শরীরে অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধি, ব্রণ, ত্বকের তৈলাক্ততা, চুল পাতলা হওয়া, একই সাথে ইনসুলিন প্রতিরোধ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
PCOS একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এর লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আপনার যদি PCOS-এর লক্ষণ থাকে তবে দ্রুত একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
